Monday, October 17, 2016

ইউরিক এসিড ও গেঁটে বাতের সম্পর্ক

Source: doctorola
ইউরিক এসিড কি এবং কোথা থেকে আসে?
মানবদেহে পিউরিন নামক উপাদান বিশ্লেষিত হয়ে ইউরিক এসিড তৈরি করে। শরীরে স্বাভাবিকভাবেই পিউরিন উপস্থিত থাকে।
এছাড়াও অর্গানিক মিট, স্টেক ও সামুদ্রিক খাবার থেকেও পিউরিন পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অ্যালকোহল, বিশেষ করে বিয়ার এবং ফ্রুক্টোজসমৃদ্ধ পানীয় পান করলে দেহে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। সাধারণত ইউরিক এসিড রক্তে দ্রবীভূত হয় এবং কিডনির মধ্য দিয়ে মূত্রে পৌঁছায়। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটলে দেহে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত ইউরিক এসিড পরবর্তীতে ইউরেট ক্রিস্টালে রূপান্তরিত হয়ে এবং অস্থিসন্ধি ও এর চারপাশের টিস্যুতে জমতে শুরু করে। যার ফলে অস্থিসন্ধি ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথাসহ ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ/জ্বালাপোড়া দেখা দেয়।

গাউট বা গেঁটে বাত কি?
গেঁটেবাত আর্থ্রাইটিসের একটি জটিল রূপ। সাধারণত যে কোনো ব্যক্তি এতে আক্রান্ত হতে পারে। রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে গেলে মনোসোডিয়াম ইউরেট মনোহাইড্রেট ক্রিস্টাল নামের এক ধরনের লবণদানা অস্থিসন্ধি এবং এর চারপাশের টিস্যুতে জমে প্রদাহ তৈরি করে, যাকে আমরা গাউট বা গেঁটে বাত বলে থাকি। শরীরের যে কোনো অস্থিসন্ধিতে (বিশেষ করে বৃদ্ধাঙ্গুলির অস্থিসন্ধি যা হাঁটার সময় ভাঁজ হয়ে যায় অর্থাৎ বুড়ো আঙ্গুলে প্রথম আক্রমণ হয়) গেঁটেবাত বেশি হয়। এর ফলে অস্থিসন্ধিতে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা হয়ে থাকে ও ব্যথার স্থান লাল হয়ে যায় ও স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে। গেঁটেবাতের ব্যথা আকস্মিকভাবে হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গেঁটে বাতের জন্য পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে প্রচণ্ড ব্যথা হওয়ার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘুম মধ্যরাতে ভেঙ্গে যায়। ব্যথার স্থানে জ্বালাপোড়া হয় ও ফুলে যায় এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করলে গরম অনুভূত হয়। এই ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে আঙুলের উপর পাতলা কাগজের ভরও অসহ্যবোধ হয়। তবে এ রোগের ঝুঁকি কমানোর উপায়ও আছে।

কাদের এই রোগ বেশি হয়ঃ
কাদের এই রোগ বেশি হয়ঃ
গাউট যদিও যেকোন ব্যক্তির হতে পারে কিন্তু মহিলা না পুরুষ কিংবা বয়স ভেদে এর শুরু ভিন্ন হতে পারে যেমন-
1. পুরুষদের বেশি হয় এবং সাধারণত মধ্য বয়সে এ রোগের শুরু, এমনকি ষাট-সত্তর বছর বয়সেও এ রোগ হতে পারে।
2. মেনোপোজের পর অর্থাৎ মাসিক যখন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়, নারীদেরও গেঁটেবাত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কারণ যখন মাসিক চলবে সেই সময় গাউটের আক্রমণ কম হয়।

গাউট কি কি ধরনের হয়ে থাকে?
প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়-
1. প্রাইমারি বাত বা গাউট (Gout) : প্রদাহজনিত কারণেই এই রোগ হয়। সাধারণত ৪০ বছর বয়সের উপরে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি।
2. সেকেন্ডারি গাউট : এটি প্রধানত কিডনি বিকলতা অথবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হয়ে থাকে। মহিলাদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি হয় এবং সাধারণত ৬৫ বছরের বেশি বয়সে দেখা যায়।

লক্ষণ কি কি?
এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:
1. পায়ের বুড়ো আঙুলের গোড়া ফুলে লাল হয়ে যাওয়া,
2. পায়ের বুড়ো আঙুলের গোড়া ফুলে লাল হয়ে যাওয়া,
3. রোগী তার জীবনের সবচেয়ে খারাপ ও ভয়াবহ ব্যথার অভিজ্ঞতার কথা বলবে,
4. হাঁটু, কাঁধ, কনুই বা অন্য কোনো জয়েন্ট ফুলে যাবে,
5. লক্ষণগুলো রাতের দিকে ও সকালে বেশি প্রকাশ পায় সাধারণত।
6. মনোসোডিয়াম ইউরেট মনোহাইড্রেট ক্রিস্টাল জমে টোফাই (সুচের মত হয়) তৈরি হবে,
7. ক্রমান্বয়ে জয়েন্টের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারাতে থাকবে।
8. এ রোগ আপনাআপনি কমে যায় সাধারণত ৫-১০ দিনের মধ্যে।

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়
যে সকল কারণে গেঁটেবাত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় সেগুলো হলোঃ
ক) দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা: দৈনন্দিন খাবার হিসেবে মাংস, সামুদ্রিক মাছ এবং ফ্রুক্টোজসমৃদ্ধ পানীয় পান করার ফলে দেহে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে গেঁটেবাত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও নিয়মিত মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে গেঁটেবাত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
খ) স্থূলতা: শরীরে মেদের পরিমাণ বেড়ে গেলে ইউরিক এসিড উৎপাদনের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়, যার কারণে গেঁটেবাত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
গ) শারীরিক অসুস্থতা: বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মেটাবোলিক সিন্ড্রোম এবং হার্ট ও কিডনি ডিজিজ ইত্যাদি।
ঘ) নির্দিষ্ট কিছু ঔষধের ব্যবহার: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত ঔষধ যেমন থায়াজাইড ডাইউরেটিক্স (Thiazide diuretics) এবং অ্যাসপিরিন (low dose Aspirin) দেহে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি করে।
ঙ) পরিবারের অন্য কারো গেঁটেবাত থাকলে।
চ) ৩০-৫০ বয়সসীমার পুরুষদের ক্ষেত্রে গেঁটে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মহিলাদের মেনোপোজের পর গেঁটে বাত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

গাউট বা গেঁটে বাতের কারণসমূহঃ
গাউট হওয়ার ঝুঁকি ও কারণ সমুহ দুটি ভিন্ন জিনিস যেখানে উপরে উল্ল্যেখিত ঝুঁকি সমুহ থাকলে গাউট হবার সম্ভাবনা বেড়ে যার কিন্ত নিম্নোক্ত কারণসমূহ সরাসরি গাউট সৃষ্টিতে দায়ী। গাউটে যেমনকি বলা হয়েছে রক্তে ইউরিক এসিড  বেড়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে। তাই নিম্নোক্ত কারণে রক্তে ইউরিক এসিড অতিরিক্ত আসে বা তৈরি হয় শরীরে অথবা কিডনি আমাদের শরীর থেকে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড  বের করতে পারে না যার ফলে ইউরিক এসিড জমা হতে থাকে। এর কারণসমূহ নিম্নরূপ-
1. দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় খাসির মাংসসহ লাল জাতীয় মাংস, শুকনো শিম জাতীয় দানা, মটরশুঁটি, মাশরুম, মাছের ডিম, কলিজা, কচু, লালশাক, পুঁইশাক বা অ্যালকোহলের পরিমাণ বেশি থাকলে রক্তে ইউরিক এসিড বাড়তে পারে।
2. বংশানুক্রম বা জেনেটিক কারণে হতে পারে।
3. শরীর হালকা বা মেদহীন রাখার জন্য কঠোর ডায়েটিং করেন তাদের ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার কারণেও গেঁটে বাত হতে পারে।
4. দীর্ঘদিন উপোস থাকার কারণে শরীরে রক্তের মধ্যে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়।
5. কিডনির সমস্যার কারণে শরীর থেকে ইউরিক এসিড যখন প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে না, তখন গেঁটে বাত সৃষ্টি হয়।
6. এছাড়া কিছু ওষুধ সেবনের ফলে।

ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়ার অন্যান্য জটিলতাসমূহঃ
রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে গাউটের পাশাপাশি কিডনিতে পাথর পর্যন্ত হতে পারে কারণ ইউরেট ক্রিস্টাল পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া এই পাথর আমাদের মুত্রনালীকে ব্লক করে দিয়ে মুত্রতন্ত্রের সংক্রমণ করতে পারে। এমনকি কিডনি ফেইলুর হতে পারে।

রোগ নির্ণয় :
রোগের ইতিহাস জেনে, রোগীকে কিছু শারীরিক পরীক্ষা করে এবং কিছু ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে সহজেই এ রোগ নির্ণয় করা যায়। ল্যাবরেটরি টেস্টের মধ্যে কিছু রুটিন রক্ত পরীক্ষা, রক্তে ইউরিক এসিডের লেভেল দেখা এবং সাইনোভিয়াল ফ্লুইড অ্যানালাইসিস করে মনোসোডিয়াম ইউরেট মনোহাইড্রেট ক্রিস্টাল চিহ্নিত করা খুব জরুরি। এ ছাড়া আক্রান্ত জয়েন্টের এক্স-রে করাও দরকার।

গাউট, বাট জ্বর বা রিউমাটোয়েড আরথ্রাইটিস নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারনাঃ
গিঁট ফুলে গেলে অবশ্যই এটি বাতের রোগ। তারপর আমাদের দায়িত্ব হবে- এই রোগকে কী আমরা গাউট (গিটে বাত) বলব, রিউমাটোয়েড আরথ্রাইটিস বলব, অস্টিওআরথ্রাইটিস বলব, নাকি রিউমেটিক ফিভার (বাত জ্বর) বলব। যেমন আমাদের দেশে একটি বিষয় খুব প্রচলিত। যেকোনো ধরনের বাতকে বলি আমরা বাতজ্বর। অনেক রোগীই আসেন, বলেন যে আমার বাতজ্বর হয়েছে! বাতজ্বর অনেক রোগের মধ্যে একটি মাত্র রোগ। বাতজ্বর সবার হয় না। বাতজ্বর ছোট বয়সে হয়, পাঁচ থেকে ১৫ বছরে হয়, ক্ষেত্রে বিশেষে একটু বড়দেরও হতে পারে। কিন্তু সেটার আশঙ্কা কম। বাচ্চাদের জন্যই সেটা প্রযোজ্য। সেই বাতজ্বরের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অল্প দিনের মধ্যে জয়েন্টের ব্যথাগুলো চলে যাবে, থাকবে না। আমরা বলি তিন থেকে ছয় মাসের পর বাতজ্বরের কোনো রোগীর জয়েন্টে ব্যথা থাকবে না। তখন খুঁজতে হবে যে তার হার্টে কোনো অসুবিধা হচ্ছে  কি না। আর অন্য যে বাতগুলো, এগুলো জয়েন্টগুলোকে আক্রমণ করবে এবং এখানেই থাকতে চাইবে।

এখন গেটে বাত বুঝতে হলে লক্ষ্য রাখুন যে, এটি মধ্য বয়স্ক পুরুষদের বেশি হয়। আরো কিছু বৈশিষ্ট্য যেমন পায়ের গোড়ালির জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, তীব্র ব্যথা হওয়া ইত্যাদি। মজার বিষয় হলো, আমি যদি গাউট বাতের রোগীকে চিকিৎসা নাও দিই তাহলে দেখা যাবে প্রথম প্রথম তিন থেকে সাত দিন বা দশ দিনের মধ্যে ব্যথাটি চলে যাবে। ফোলাটাও কমে আসবে। কিছু না করলেও কমবে। তবে এত তীব্র ব্যথা হয় যে ব্যথানাশক ওষুধ দিতেই হবে। জয়েন্ট ফুলে থাকলে বেশি ব্যথা করলে ইনজেকশন নিতে হবে।

গেঁটেবাত প্রতিরোধে করণীয়ঃ
ক) ডায়েটিং করার নামে খাওয়া-দাওয়া একেবারে ছেড়ে না দেয়া। প্রচুর পরিমাণে নিয়মিত পানি পান করা, যাতে কিডনি স্বাভাবিক থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে অনেক সময় এই গেঁটে বাত থেকে হতে বাঁচতে পারা যায়।
খ) প্রোটিনের উৎস হিসেবে কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাতীয় খাবার খেতে হবে যা গেঁটেবাত প্রতিরোধে অধিক কার্যকারি।
গ) প্রাণীজ আমিষ যেমন মাছ ও মাংস পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।
ঘ) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
ঙ) অ্যালকোহলসমৃদ্ধ পানীয় পরিহার করতে হবে।
চ) রেড মিট মানে অতি লাল মাংস, শুকনো শিম, মটরশুটি, কচু, লাল পুঁইশাক এবং সি ফুড পরিহার করা উচিত।
ছ) এছাড়াও উপরে উল্ল্যেখিত রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো এরিয়ে চলে এই রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

চিকিৎসাঃ
বাত সৃষ্টিকারী কারণ দমন করাই মূল লক্ষ্য। খাদ্য গ্রহণসহ দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যথা নিরাময় ও রোগ দমনের জন্য ওষুধ সেবন করা অপরিহার্য। কিন্ত নিচে উল্ল্যেখিত যেকোন ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যাতিত সেবন করা যাবে না। চিকিৎসা সুবিধার জন্য নিম্নলিখিত তিন ভাগে চিকিৎসার বর্ণনা করা হল-
১।  হঠাৎ আক্রান্ত বাত (Acute Attack)
ক) ক্রান্ত জয়েন্টে বরফ লাগাতে হবে এবং বিশ্রামে রাখতে হবে।
খ) দ্রুত কার্যক্ষম ননস্টেরয়েডাল এন্টিইনফ্লামেটরি ড্রাগ যেমন : ন্যাপ্রোক্সেন (Naproxen), ডাইক্লোফেনাক (Diclofenac), ইনডোমেথাসিন (Indomethacin) ব্যথা নিরাময়ে ভূমিকা রাখে।
গ) ওরাল কলচিসিন (Oral colchicines) ও ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে।
ঘ) তীব্র ব্যথার সময় আক্রান্ত জয়েন্ট থেকে সিরিঞ্জের সাহায্যে তরল পদার্থ বের করে আনলে রোগী সুস্থ বোধ করেন। তরল পদার্থ বের করার পাশাপাশি ওই জয়েন্টে ইনজেকশনের সাহায্যে স্টেরয়েডও (steroid) দেয়া হয়।

২. দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা (Chronic Treatment)
রোগীকে শরীর থেকে মেদ কমানোর পাশাপাশি অ্যালকোহল গ্রহণে সতর্কতার কথা বলা হয়। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় ইউরিক এসিডের মাত্রা কম রাখার জন্য ড্রাগ ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও রিহ্যাবিলিটেশান ও ফিজিক্যাল থেরাপির মাধ্যমেও এর চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।

No comments:

Post a Comment